ঢাকা: আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ উপলক্ষ্যে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ বা শোডাউন নিষিদ্ধ। কিন্তু, সেই আইন অমান্য করে খোদ নির্বাচন কমিশনের সামনেই বিক্ষোভ ও আন্দোলন করছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কমিশনের জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রতীক বরাদ্দের আগের পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী জনসভা, মিছিল কিংবা কোনো ধরনের রাজনৈতিক শোডাউন করতে পারবে না। কিন্তু সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে ৩ দফা দাবিতে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ করছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তাদের উপস্থিতিতে এলাকায় যানজট ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
তফসিল পরবর্তী এই সময়ে সবধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে কীভাবে এই জমায়েত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে, সেখানে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে জানান, তফসিল ঘোষণার পর সবধরনের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কমিশনের সামনে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ অবস্থায় করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম সারাবাংলাকে বলেন, ‘কমিশন যদি নিজের দোরগোড়ায় আচরণবিধি রক্ষা করতে না পারে, তবে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে। তাই ইসিকে শক্ত হাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সব রাজনৈতিক দলগুলোকেই সহায়তা করতে হবে।’
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসির দফতরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ বিষয়ে শিগগিরই একটি সুরাহা হবে।

নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ। ছবি: সারাবাংলা
উল্লেখ্য, ৩ দফা বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে পূর্ব নির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি’ পালন করতে এসে এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে বসে পড়েন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা পর্যায়ের সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আজকের মূল ইস্যু হলো ব্যালট পেপার। আমরা লক্ষ্য করলাম যে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব প্রতিপত্তির মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। এবং যারা এখানে বসে আছে, তাদের অবশ্যই প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ও প্রত্যক্ষ মদদে এই ঘটনাটি ঘটেছে।’
যে ৩ দফা দাবিতে ছাত্রদল আন্দোলন করছে
- পোস্টাল ব্যালট ইস্যু: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কমিশনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ ও ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
- নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা: কোনো বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা।
- শাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাকসু) ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসির ‘বিতর্কিত’ ও ‘প্রভাবিত’ প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।