ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ১৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ। এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) লন্ডনে কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে পর্যবেক্ষক দলের নাম ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে লন্ডনে কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলের গঠন ঘোষণা করেন। পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের দল মোতায়েনের মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মৌলিক গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি।
বাংলাদেশে আমাদের উপস্থিতি কেবল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব থেকেই পরিচালিত নয়, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতির অংশ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতিতে নতুন বছরের শুরুতে নিজেদের সময় দেওয়ার জন্য এই বিশিষ্ট কমনওয়েলথ নাগরিকদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
প্রতিনিধি দলের প্রধান আকুফো-আদোর সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন। পর্যবেক্ষক দলকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটেরর একটি দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো: নির্বাচনি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা। দলটি বাংলাদেশের জাতীয় আইনসহ যেসব মানদণ্ডে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে, তার আলোকে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার পরিচালনা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবে।
মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসংবলিত একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, সব কমনওয়েলথ সরকার এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।
১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলের তালিকায় আছেন—ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডডো, ক্যারিবিয়ান উইমেন ইন লিডারশিপের প্রেসিডেন্ট লেব্রেচটা নানা ওয়ে হেসে-বেইন, কানাডার যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ নিল ফিলিপ ফোর্ড, প্যাসিফিক ইয়ুথ কাউন্সিলের সমন্বয়ক মিলিয়ানা ইগা রামাতানিভাই, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর ড. রাস আদিবা মোহাম্মদ রাদজি, মালদ্বীপের সাবেক উপমন্ত্রী জেফরে সালিম ওয়াহিদ, মরিশাসের নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ইরফান আবদুল রহমান, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ডেভিড জন ফ্রান্সিস, সিঙ্গাপুরের মানবাধিকার আইনজীবী সাঙ্গিথা যোগেন্দ্রন, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক ম্যান্ডলা এমচুনু, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দিনেশা সামারারত্নে, উগান্ডার অধ্যাপক উইনিফ্রেড মেরি তারিনেবা কিরিয়াবউইরে, যুক্তরাজ্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রোজমেরি আজায়ি, জাম্বিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ক্রিটিকাস প্যাট্রিক এনশিনদানো।