ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল, ব্যালট পেপার আসা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী দুপুরে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যালট বাক্স সিলগালা (লকিং) কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় তিনি জানান, ভোটারদের সুবিধার্থে এবার দেশে ও প্রবাসে দুই ধরনের ব্যালট পেপার এবং বিশেষ ডিজিটাল স্ক্যানিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
মো. ইউনুচ আলী আরও জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কিউআর কোড স্ক্যানিং সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিটি ব্যালট গ্রহণের সময় রেজিস্ট্রি এন্ট্রি ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে সঠিকতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্সগুলো লক করা হয়েছে। প্রতি আসনে ৪০০টি পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি করে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হচ্ছে। প্রতিটি বাক্সের লক নম্বর উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং চারটি করে সিল ব্যবহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ‘আউট অফ কান্ট্রি ভোটিং’ (ওসিবি) ও ‘ইন কান্ট্রি পোস্টাল ব্যালট’ (আইসিপিবি) ভোটিংয়ের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা: ব্যালট বাক্সগুলো নির্ধারিত কক্ষে পুলিশি পাহারায় সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে।
নিবন্ধিত ভোটার ও সময়সীমা
এবারের নির্বাচনে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে:
প্রবাসী বাংলাদেশি: ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি।
অভ্যন্তরীণ ভোটার: ৭ লাখ ৬১ হাজারের বেশি (সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও কারাবন্দী)।
সময়সীমা: ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যেসব ব্যালট পেপার ডাকযোগে পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে। এরপর প্রাপ্ত ব্যালটগুলো বাতিল হিসেবে আলাদা রাখা হবে।
ব্যালট পেপার ও গণনা পদ্ধতি
প্রবাসীদের ব্যালটে সব দলের প্রতীক (নৌকা ছাড়া ১১৮টি ও ‘না’ ভোট) থাকবে। দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যালটে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উভয়ই থাকবে।
ডিজিটাল ট্র্যাকিং ডাকযোগে ব্যালট আসার পর বারকোড ও কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে ল্যাপটপে ডাটা এন্ট্রি করা হবে।
বাতিল প্রক্রিয়া ভোটার যদি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান না করে ব্যালট পাঠান, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া ডুপ্লিকেট কিউআর কোড পেলেও তা বাতিল হবে।
গণনা স্থান ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্ধারিত কক্ষে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই ভোট গণনা করা হবে।