ঢাকা: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নতুন নির্দেশনা ও নীতিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক বা গণমাধ্যম কর্মীদের সংবাদ সংগ্রহে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা প্রদানে বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা এ সংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
আবেদনের সময়সীমা ও পদ্ধতি:
ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক আশাদুল হক জানান, আগ্রহী সাংবাদিকদের আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত পোর্টালে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদন লিঙ্ক: https://pr.ecs.gov.bd/
অনুমোদন পাওয়ার পর সাংবাদিকরা কিউআর কোড সম্বলিত পরিচয়পত্র ও স্টিকার নিজেরাই ডাউনলোড ও মুদ্রণ করতে পারবেন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা:
সোমবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা এক বিশেষ পরিপত্রে জানানো হয়, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাংবাদিকরা নির্বিঘ্নে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন। দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার বাধা দিলে বা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্থ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
পরিপত্রের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো:
বাধা দিলে জেল-জরিমানা: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৮৪(ক) অনুযায়ী, কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে কাজে বাধা প্রদান, শারীরিক ক্ষতি করা বা সরঞ্জাম নষ্ট করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং যথাযথ দণ্ড প্রদান করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা: ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও তথ্য সংগ্রহে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকবে।
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ: ‘সাংবাদিক নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী, বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিকরা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রিজাইডিং অফিসাররা তাদের কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
কার্ড যাচাই: দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিচয়পত্রের সঠিকতা যাচাই করতে পারবেন।
এরই মধ্যেই এই পরিপত্রের অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে গণমাধ্যমকর্মীদের এই বিশেষ সুরক্ষা ও অনলাইন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।