ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই মোতায়েনের ক্ষেত্রে ক্যাডেটদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা কঠোরভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ইসি উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন সই করা এক চিঠিতে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
নির্বাচনি মাঠে বিএনসিসি ক্যাডেটরা মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের সহায়তায় কাজ করবেন। তাদের প্রধান কাজগুলো হলো-
- ভোটারদের সারিবদ্ধ করা এবং কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
- অসমর্থ, বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী ভোটারদের ভোটদানে বিশেষ সহায়তা করা।
- ভোটারদের ভোটকক্ষ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সাহায্য করা।
- রিটার্নিং বা প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনি অন্যান্য কাজে সহায়তা করা।
ইসির দেওয়া ৭ দফা নির্দেশনা-
নিরপেক্ষতা যাচাই: দায়িত্ব দেওয়ার আগে ক্যাডেটদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিবিড়ভাবে যাচাই করতে হবে।
২. সমন্বয় ও পরিকল্পনা: রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করে মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন।
৩. এলাকা ভিত্তিক অগ্রাধিকার: মেট্রোপলিটন এলাকা, জেলা ও উপজেলা সদরকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে নিজ উপজেলায় ডিউটি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. জনবল বণ্টন: প্রতি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ১০ জন এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত ২ জন ক্যাডেট থাকবেন। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী এই সংখ্যা পরিবর্তনযোগ্য।
৫. কর্মকাল: রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ক্যাডেটরা ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত এবং ভোটকেন্দ্রে ফলাফল বিবরণী দাখিল করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
৬. প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা: ক্যাডেটরা কোনো প্রার্থী, দল বা মতের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো প্রকার প্রচারণায় অংশ নিতে বা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারবেন না।
৭. প্রশিক্ষণ: দায়িত্ব পালনের আগে রেজিমেন্ট কমান্ডারদের তত্ত্বাবধানে ক্যাডেটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনের যাবতীয় ব্যয় নির্বাচন কমিশনের বাজেট থেকে বহন করা হবে।