Thursday 29 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সরকারকে চিঠি দিচ্ছে ইসি
গণভোটে ‘হ্যাঁ/না’ প্রচার চালাতে পারবেন না সরকারি কর্মচারীরা

নাজনীন লাকী স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ/না’-এর প্রচার চালাতে পারবেন না সরকারি কর্মচারীরা। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণভোটের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কোনো বাধা না থাকলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনোভাবেই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে ভোট চাইতে পারবেন না। এই নির্দেশনা নিশ্চিত করতে শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিচ্ছে ইসি সচিবালয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। কমিশনের ভাষ্যমতে, গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং আরপিও অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের প্রচারে অংশ নিলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সারাবাংলাকে জানান, ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আইনি সীমাবদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি পাঠাচ্ছি। সরকারের কাজে যুক্ত যে কেউ গণভোটের বিষয়ে জনগণকে অবহিত বা সচেতন করতে পারবেন, কিন্তু নির্দিষ্ট করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের আহ্বান জানাতে পারবেন না। এটি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সরকারি কর্মকর্তা নন, তাই তাদের পক্ষাবলম্বনে আইনি বাধা নেই। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যান্য উপদেষ্টারা এরই মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালালেও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের জন্য আইন ভিন্ন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘গণভোটের এই বিষয়টি যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিত তাহলে এত বিতর্ক হতো না। সরকার যেহেতু এ সব বিষয়ে অনেক আগে থেকে কাজ করেছে, তাদেরই চেষ্টার ফসল এই গণভোটে। কিন্তু সরাসরি বলা যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন বা ‘না’ ভোট দিন–এটা করা ঠিক না। কারণ, সরকার যদি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ব্যাপক পরিমাণে প্রচার ও সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হবে সরকার তথ্য দেবে, ব্যাখ্যা দেবে- আর সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি ভোটারদের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।’

নির্বাচন কমিশন তাদের চিঠিতে ‘গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর ২১ ধারা এবং ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২’ এর ৮৬ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করছে। আরপিও ৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি কোনো সরকারি পদমর্যাদার ব্যক্তি নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বা পদের অপব্যবহার করেন, তবে তিনি নূন্যতম এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

গণভোট অধ্যাদেশ ২১ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে যেসব কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, গণভোটের ক্ষেত্রেও সেগুলো একইভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

বর্তমানে সারাদেশে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার এবং ৬০০ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ প্রায় ৮ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত। এছাড়া নয় লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তারা কোনোভাবেই কোনো পক্ষের হয়ে ভোট চাইতে পারবেন না।

যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে, সেহেতু মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের ওপর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, সরকারের অবস্থানে জটিলতা না থাকলেও প্রশাসনের কর্মীদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

যেসব বিষয়ে গণভোট

১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর দেশে চতুর্থবারের মতো আয়োজন হতে যাচ্ছে গণভোট। দেশের ভোটারদের পাশাপাশি প্রবাসী ভোটাররাও এই গণভোটে অংশ নিচ্ছেন।

সারাবাংলা/এনএল/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

নাজনীন লাকী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর