ঢাকা: সমবায় অধিদফতরকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অধিদফতরের তিতাস সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র-ডব়্প এবং সমবায় অধিদফতর যৌথ আয়োজিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে সমবায় অধিদফতরের সকল কার্যালয়কে ‘শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণা’বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ৪ এর উপ-ধারা ১ ‘সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ’ অনুযায়ী এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
হাফিজুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর নয়, অধূমপায়ীর জন্যও সমান ঝুঁকিপূর্ণ। সমবায় অধিদফতরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ আসেন। এই কর্মস্থলকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত করার মাধ্যমে কেবল কর্মীরাই নন, বরং আগত সেবাগ্রহীতাদেরও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা বলেন, গ্যাটস ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২.৭ শতাংশ আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। এ ছাড়াও, ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু (১৫ বছরের নিচে) পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ভুগছে।
সভাটি সঞ্চালনা করেন উপনিবন্ধক শাকিলা হক। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত নিবন্ধক (সমবায় ব্যবস্থাপনা) জেবুন নাহার, সাবেক সচিব মো. আজহার আলী তালুকদার প্রমুখ।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর লাগাম টানতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ আইন আকারে পাশ করতে আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো যাতে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে অধ্যাদেশের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়াসহ নির্বাচনি প্রচারে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সভা শেষে সমবায় অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার বিরোধী বার্তামূলক সাইনবোর্ড এবং স্টিকার স্থাপনা করা হয়।