Thursday 05 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে: টিআইবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৬ | আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৫

ঢাকা: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের পাশাপাশি সব ভোটারের জন্য নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনকে প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির সম্মেলনে কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা যে কোনো জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ। সেই হিসাবে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ২ কোটির বেশি হওয়ার কথা, যদিও আমাদের দেশে পরিচালিত জরিপগুলি নানা দুর্বলতার কারণে অনেক কম সংখ্যা উপস্থাপন করে থাকে। এত বড় জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে মূলধারার কোনো রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনা করতে চাইবে, এটি ভাবাই যায় না। তাই আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির কাছে তাদের দাবি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির কাছে প্রত্যাশাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। প্রথমটি হলো- প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে জাতীয় কমিটমেন্ট রক্ষা করা, দ্বিতীয়টি হলো- আন্তর্জাতিক কমিটমেন্ট রক্ষা করা, আর তৃতীয়টি হলো- সাধারণভাবে কিছু প্রত্যাশা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী মানুষদের অংশগ্রহণ থাকাটা খুবই জরুরি। কিন্তু দলগুলি প্রতিবন্ধী মানুষকে নমিনেশন দেয় না। নির্বাচন হয়ে গেলে জয়ী দলগুলি সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্যের মনোনয়ন দেন। সে সময়ে বিভিন্ন দল থেকে যদি অন্তত একজন নারীসহ মোট তিনজন প্রতিবন্ধী মানুষের মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে সংসদে ১ ভাগ আসনে প্রতিবন্ধী মানুষের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের সকল স্তরে (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ইত্যাদি) অন্তত এটি করে আসন প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সংরক্ষণ করলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনসেবার সুযোগ নিশ্চিত করতে পারবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যাতায়াত, খেলাধুলা, বিনোদন, যোগাযোগ বা যোগাযোগ প্রযুক্তি- সব ক্ষেত্রেই সবচাইতে বড় বাধা হলো প্রবেশগম্যতার অভাব। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি শক্ত কমিটমেন্ট ছাড়া এই সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলির দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করার কার্যক্রম গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

নির্বাচন কমিশনের নিকট দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত সমূহ যেমন- ভোটের দিনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ভোট কেন্দ্রে তাদের গাইড নিয়ে ভোটদানের সুযোগ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভোটদানের নিচ তলায় একটি বিশেষ বুথ থাকবে। কিন্তু এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এর পক্ষ থেকে কোনো প্রচার-প্রচারণা না থাকায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। আমাদের সুপারিশ হলো- নির্বাচন কমিশন অতি দ্রুত এই বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলি অনেক বেশী জনবান্ধব হয়েছে এবং দেশের আপামর জনসাধারণের সমস্যা এবং তাদের উন্নয়নের পথে বাধাগুলি অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করছে। তাই আমাদের প্রত্যাশাগুলি রাজনৈতিক দলসমূহ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- মনসুর আহমেদ চৌধুরী (সভাপতি, ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ), খন্দকার জহুরুল আলম (সদস্য সচিব, ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ), মো. জাহাঙ্গীর আলম (সদস্য, ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ), ডা. নাফিসুর রহমান (ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুশন এক্সপার্ট ও আইজেনহাওয়ার ফেলো), অমৃতা রেজিনা রোজারিও (কান্ট্রি ডিরেক্টর, সাইটসেভার্স বাংলাদেশ), মহুয়া পাল (চেয়ারপারসন, অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এবং সদস্য, ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ), মো. আবদুল্লাহ (বাক্ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি)।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর