Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

মৎস্যসম্পদ আমাদের সামগ্রিক জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৭
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

ঢাকা: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কাজ কেবল অর্থনীতি বা বিজ্ঞানের বিষয় নয়; এটি ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচরণ-সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। আমরা যে মৎস্যসম্পদ নিয়ে কাজ করি, তা আমাদের সামগ্রিক জীবনবোধের অংশ। বিষয়টিকে কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পূর্ণতা আসবে না।

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), নদী কেন্দ্র, চাঁদপুর-এর উদ্যোগে আয়োজিত “হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের গবেষণা প্রস্তাবনা পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৫–২৬)” – শীর্ষক ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদী সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই গবেষণার উপস্থাপনা ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন এমন ভাষায় হওয়া উচিত, যা সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে। প্রেজেন্টেশন ও শিরোনাম ইংরেজিতে হতে পারে, তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অবশ্যই বাংলায় প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

সামাজিক-অর্থনৈতিক গবেষণায় নারীদের অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, হালদা পাড়ের বাস্তবতা বোঝার জন্য সেখানকার নারীদের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সামাজিক-অর্থনৈতিক গবেষণা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। গবেষণা পদ্ধতিতেই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

হালদা নদীর বর্তমান ঝুঁকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডই নদীর জন্য প্রধান হুমকি। ‘এনথ্রোপোজেনিক’ শব্দ ব্যবহার করে বিষয়টিকে আড়াল না করে একে মানুষের ভুল ও ক্ষতিকর কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। ভুজপুর রাবার ড্যাম ক্ষতিকর হলে তা অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরে তিনি বলেন,। গবেষণা চলমান থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীতীরবর্তী তামাক চাষ মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি। তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কিছুটা সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা ও আগ্রাসী প্রজাতি ‘সাকার ফিস’ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই ফিস লুটেরা শ্রেণির মতো। এ মাছের মতো জাতীয় সংসদেও লুটেরা যেন প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ভালো মানুষ নির্বাচিত করতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকতে হবে। শুরুতেই সময় বৃদ্ধি নির্ধারণ না করে বাস্তব প্রয়োজনে তা বিবেচনা করা উচিত। তিনি ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে একটি মধ্যমেয়াদি কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব করেন, যাতে প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা যায়।

উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় হালদা নদী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)’র মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো: ইমাম উদ্দীন কবীর এবং সম্মানীয় অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের নদী কেন্দ্রের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো: আমিরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর