ঢাকা: শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার। এখন অপেক্ষা কেবল ভোটারদের রায়ের।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটায় নির্বাচনি প্রচার শেষ হয়। গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচার শুরু হয়েছিল।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। প্রথমবারের মতো একই দিনে দুটি ভোট গ্রহণের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে দেশ এখন নিরাপত্তার কঠোর চাদরে ঢাকা।
এক নজরে নির্বাচনের প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হবে।
মোট আসন: ২৯৯টি (একটি আসনে প্রার্থী মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত)।
ভোটের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
ভোট গ্রহণ: সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা (বিরতিহীন)।
ভোট কেন্দ্র: প্রায় ৪৩ হাজার।
মোট ভোটার: পৌনে ১৩ কোটি।
রাজনৈতিক দল: বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ মোট ৫১টি দল।
প্রার্থী সংখ্যা: সংসদ নির্বাচনে দুই সহস্রাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটের সরঞ্জাম: বুধবার ভোর থেকেই ৪৩ হাজার কেন্দ্রে ব্যালট বক্স ও পেপার পৌঁছানো শুরু হবে।
ব্যালটের ভিন্নতা: ভোটাররা দুটি ব্যালটে সিল দেবেন। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদা-কালো এবং গণভোটের জন্য থাকছে গোলাপি ব্যালট।
এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ও দূরে থাকা ভোটাররা ইতোমধ্যেই ভোট দিয়েছেন। এই ব্যালটগুলো ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে।
ভোটের দিনে যানবাহন চলাচল
ভোটের দিন যান চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টরা যে যানবাহন ব্যবহার করবেন, তাতে চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন অবস্থান করতে পারবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার সর্বোচ্চ স্তরে সেনাবাহিনী
এবার প্রায় এক লক্ষ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে বেশি। পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার বাহিনীর সাথে সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সদস্য মিলে প্রায় ৯ লাখের মতো সদস্য রয়েছে নির্বাচনি নিরাপত্তায়।
নজর যখন ফলাফলে
ইসির সিনিয়র সচিব জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি রাতভর ভোট গণনা শেষে ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোরের মধ্যেই প্রায় সব আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত সত্যায়িত শিট পাওয়ার পরপরই কেন্দ্র থেকে সরাসরি ফলাফল প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ও জননিরাপত্তা
১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টা (ভোটের আগের ৪৮ ও পরের ৪৮ ঘণ্টা) নির্বাচনি এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।