ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে সশরীরে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া, ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। সব মিলিয়ে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৫৮টি।
এবার ইন-পার্সন ভোটিংয়ের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ এবং বাকি ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ। নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮১ জন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে মাঠ পর্যায়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আছে, তাতে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট। যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটছে এগুলো না ঘটলে আরও ভালো হতো। অতীতে যেকোনো সময় চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।’
এ সময় সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ইসি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, সমর্থক সবার প্রতি আহ্বান যে, আমরা যে এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রেখে এবং যে যেসব জায়গা কিছুটা হলেও এখন পর্যন্ত টেনশন বিরাজমান সেগুলো যেন আর কন্টিনিউ না করে। সুন্দর সৌহাদ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অতি প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন সম্পন্ন করি।’
নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনের ফল ভোটের দিন দিবাগত রাতের মধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে হয়ে যাবে। আর কম্পাইলেশন হবে পরে। তিনি বলেন, ‘গণনা কার্যক্রম একইসঙ্গে শুরু হবে। তা না হলে দেখা যাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পাওয়ার পরে এজেন্টরা দৌড় দিয়ে চলে গেছেন। তখন আর কেউ থাকবে না। আবার যদি আপনি গণভোটের ফলাফল আগে ডিক্লেয়ার করেন অস্থিরতা তৈরি হবে বাইরে।’
ইসি বলেন, ‘আমরা দুটোর কোনটাই করতে চাই না একঙ্গে।’ তিনি জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি হবে কম্পাইলেশন। কম্পাইলেশন অন্য জিনিস। ফলাফল ঘোষণা এক জিনিস আর কম্পাইলেশন এক জিনিস। কম্পাইলেশন মানে হচ্ছে সব কেন্দ্র থেকে যে ফলাফল খণ্ড খণ্ড ভাবে সারারাত আসে সেগুলোকে এক করা।’
তিনি জানান, কেন্দ্রে যেটা আনঅফিশিয়াল ফলাফল আগে ডিক্লেয়ার করা হয়েছে, এটা ফর্ম-১৮ লিপিবদ্ধ করে প্রার্থী বা তার এজেন্টের উপস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার সই করবেন। সেটার ওপর ভিত্তি করে কিন্তু পরবর্তী সময়ে গেজেট হবে।