ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন আসন থেকে উদ্বেগজনক অনিয়ম, ভয়ভীতি ও সহিংস আচরণের একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাড়ে এগারোটার দিকে দলটির প্রচার সম্পাদক হাসান জুনাইদ এ তথ্য জানান।
ঢাকা-১৩ আসনের ৩৩ নং ও ৩৪ নং ওয়ার্ডে আমাদের বৈধ এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ভোটারদেরকে কেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে সার্ভার ডাউন থাকার ঘটনাও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করছে।
ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শামা ওবায়েদের বাড়ির ভোটকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর) উপজেলায় প্রশাসনের ভূমিকা অনেকটাই নিশ্চুপ ও রহস্যজনক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নেই, অন্যান্য বাহিনীর উপস্থিতি অপ্রতুল। কেন্দ্রের নির্ধারিত চৌহদ্দির ভিতরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। ভোর ৩টা থেকে এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। চন্ডিগড় ইউনিয়নের মধুয়াকোনা কেন্দ্রের এজেন্ট শাহজাহানকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, – যা মানবাধিকার ও নির্বাচনি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
গাজীপুর-৩ আসনে গতকাল রাত থেকেই এজেন্টদেরকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি একজন এজেন্টের পরিবারকে জিম্মি করে তাকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এখনো ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে বলে তথ্য এসেছে।
রাঙামাটি-২৯৯ আসনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রের ভিতরে প্রকাশ্যে ভোটারদেরকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সিরাজগঞ্জ-এ বেশ কিছু কেন্দ্রে বোরকা পরিহিত মহিলা ভোটারদেরকে পুরুষ এজেন্ট কর্তৃক অপদস্ত ও হেনস্তা করার অভিযোগ এসেছে। জোরপূর্বক বোরকা খোলে নিচ্ছে।
সারাদেশই বোরকা পরা মহিলাদেরকে ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই-বোরকা পরিহিত মহিলা ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজন হলে, তা অবশ্যই মহিলা প্রিজাইডিং অফিসার ও মহিলা এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তা নারীর মর্যাদা ও ধর্মীয় এবং নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
নরসিংদী-৩ আসনের পুটিয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর কেন্দ্রে ধানের শীষের পক্ষে জাল ভোট প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অবিলম্বে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রাখে।
আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি-উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এবং সব কেন্দ্রে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভীতিমুক্ত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।