ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করেছে রাশিয়ান ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। কমিশনার পাভেল আন্দ্রিভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সফর করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্টি জানাল রাশিয়ার সিইসি প্রতিনিধিদলটি।
সফরকালে রাশিয়ার সিইসি এবং ঢাকায় অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাসের পর্যবেক্ষকরা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আটটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসব কেন্দ্রে ৪০টিরও বেশি ভোটকক্ষ পর্যবেক্ষণ করা হয়। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ভোট গণনা শুরুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তারা উপস্থিত ছিলেন।
পর্যবেক্ষকরা জানান, ভোটগ্রহণে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি ছিল দৃঢ় এবং ভোটারদের আগ্রহও ছিল উল্লেখযোগ্য। পরিদর্শন করা প্রতিটি কেন্দ্রে জাতীয় আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে সু-প্রশিক্ষিত পদ্ধতিতে ভোট পরিচালিত হয়েছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা প্রস্তুত ছিলেন এবং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেছেন। ভোটগ্রহণে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশ বিরাজ করেছে। পোলিং অফিসাররা দলীয় পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বচ্ছতা ও তদারকি নিশ্চিত করেন।
নিরাপত্তা জোরদারে ৯ লাখের বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। আয়োজকরা আইন মেনে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে প্রতিনিধিদল উল্লেখ করে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকলেও তা সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেনি।
ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেক ভোটার জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকার পতনের পর এটি তাদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি নির্বাচন। কেউ কেউ পরিবার-পরিজন, এমনকি শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন। সামগ্রিক পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। নির্বাচন কর্মকর্তাদের দাবি, ভোটার উপস্থিতি আগের বছরের তুলনায় বেশি ছিল।
পর্যবেক্ষকরা যে কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত ছিলেন সেখানে পোলিং এজেন্ট ও ভিডিও নজরদারির মধ্যে পদ্ধতিগতভাবে ভোট গণনার প্রস্তুতি নেয়া হয়।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে পাভেল আন্দ্রিভ নির্বাচন ব্যবস্থার মান ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন এবং রাশিয়ার আসন্ন স্টেট ডুমা নির্বাচনের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সিইসি চেয়ারপারসন এলা পামফিলোভার আমন্ত্রণপত্র বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে। ২০১৯ সাল থেকে দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওইউ) কার্যকর রয়েছে।