ঢাকা: আসন্ন বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে কোনো ব্যক্তি লাভজনক পদে থেকে প্রার্থী হতে পারবেন না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রজাতন্ত্র বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে এবং এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, লাভজনক পদ বলতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো অফিস বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ অথবা সরকারের ৫০ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে এমন কোনো কোম্পানির কোনো অফিসে সার্বক্ষণিক পদ বা পদমর্যাদাকে বোঝাবে। যারা এসব পদে দায়িত্বরত আছেন, তারা এই উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, উপজেলা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বা কর্পোরেশন এবং সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের পদে থাকা ব্যক্তিরাও নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। এমনকি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই বিধান কার্যকর থাকবে। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে এসব ব্যক্তিকে অবশ্যই নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ না করে মনোনয়নপত্র জমা দিলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামী ২ মার্চ। দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র ৫ মার্চ বাছাই করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এরপর ৬ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আপিল করতে পারবেন এবং ১১ মার্চ সেই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ মার্চ। পরদিন ১৫ মার্চ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে এবং আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।