ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের সন্তানদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে শিক্ষাভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই শহিদ ও যোদ্ধা পরিবারের অনেক সন্তান অভিভাবক হারিয়ে বা যথাযথ দেখভালের অভাবে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়েছে। তাদের ড্রপআউট রোধ করে আবার স্কুলে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষাভাতা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে প্রকৃত আহতদের যাচাই-বাছাই করে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, যারা হাত-পা হারিয়েছেন বা আংশিক কর্মক্ষম—তাদের জন্য ছোট আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরির বিষয়েও কাজ চলছে। বিআরডিবি বা অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করতে প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসন নিয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন। বিশেষ করে যেসব শিশু পিতৃহীন হয়েছে, তারা যেন পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন সব সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। এরইমধ্যে ৩০০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যায়ভাবে নেওয়া আর্থিক সুবিধা পুনরুদ্ধারের বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।