ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগ দিয়েছে আমাদের। এখন দেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। নতুন সরকারের প্রত্যাশা থাকতে পারে। সরকার আরও যোগ্য কাউকে নিয়োগ দিতে পারে তাই আমরাই নিজ থেকে অনুরোধ করেছিলাম। তার প্রেক্ষিতেই আমরা আজকে পদত্যাগ করেছি বলে জানিয়েছেন সদ্য বিদায়ী দুদক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মোমেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেল পৌনে ৪ টায় বিদায় বেলায় গাড়িতে ওঠার আগে দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নতুন সরকার নতুন কাউকে নিয়ে চিন্তা করবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা প্রায় ১৮ মাস কাজ করেছি। কি করেছি আর কি করতে পারিনি তা আপনারা জানেন, দেশবাসী জানে। এখন নিশ্চয় সরকারের আরও যোগ্যতম কেউ থাকতে পারে। তারা আসবে আরও ভালো করবে।
সাংবাদিধানিক পদে থেকেও সরকারের চাপে পদত্যাগ করছেন কিনা? দেশবাসী একটি খারাপ ম্যাসেজ পাবে? জবাবে তিনি বলেন, দেখুন আমরা নিজেরাই এই পদে থাকবো না সেজন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করেছি। এখানে আর কিছু বলার নাই।
এ সময় পদত্যাগ করা অন্য দুই কমিশনারও ছিলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ড. এমএ মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন— অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী (তদন্ত) এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ (অনুসন্ধান) কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর। এর মধ্যে আলি আকবার আজিজী যোগদান করেন ১১ ডিসেম্বর এবং হাফিজ আহসান ফরিদ যোগদান করেন ১৫ ডিসেম্বর।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। বিএনপির নিয়োগ দেওয়া দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান, কমিশনার ঢাবির সাবেক ভিসি মনিরুজ্জামান মিঞা এবং অডিটর মনিরুদ্দিনকে।
২০০৭ সালে জরুরি সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে বিএনপি সরকারের নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যানসহ সব কমিশনারকে সরিয়ে দিয়ে সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান, জেলা জজ হাবিবুর রহমান ও অডিট বিভাগের মঞ্জুর মান্নানকে কমিশনার নিয়োগ দেয়।
আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়ে জরুরি সরকারের নিয়োগ দেওয়া কমিশন ভেঙে দেয়। তবে চেয়ারম্যান সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী পদত্যাগ করতে তিন মাস সময় পান।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের পছন্দের লোকদের স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়।