ঢাকা: কয়েকদিন ধরে শীর্ষে থাকার পর কিছুটা কমেছে রাজধানীর বায়ুদূষণের মাত্রা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় এখন ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। যদিও দূষণের মাত্রা কমেছে, তবুও নগরীর বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর পর্যায়েই রয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা IQAir–এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমানের সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ১৭২। এই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগের দিন শুক্রবার একই সময়ে ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ৩২৯ এবং বৃহস্পতিবার ছিল ৩৩১। সে হিসেবে কয়েক দিনের ব্যবধানে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এদিন বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল দিল্লি। ভারতের এই শহরের বায়ুমানের স্কোর ছিল ২২৮, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কিনশাসা। এছাড়া ১৮৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কাম্পালা।
একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে লাহোর। পাকিস্তানের এই শহরের বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৮০। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কাঠমান্ডু, যার স্কোর ১৭৬। সপ্তম স্থানে রয়েছে ইয়াঙ্গুন এবং অষ্টম স্থানে রয়েছে উহান। এছাড়া নবম স্থানে রয়েছে ডাকার এবং দশম স্থানে রয়েছে বাগদাদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুমানের সূচক বা একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে সেটিকে ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে সেটিকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়, আর ৩০১ থেকে ৪০০ হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পড়ে।
বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক আবহাওয়া, নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং ধুলাবালুর কারণে রাজধানীতে প্রায়ই দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তাই বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর হলে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া কমানো এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।