ঢাকা: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ভারত সর্বদা একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে এবং সমর্থন করে যাবে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর হোটেল রূপসী বাংলার গ্র্যান্ড বলরুমে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতাসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনদের সম্মানে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিল মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা এবং তার সহধর্মিণী মানু ভার্মার আমন্ত্রণে ইফতারে অংশ নেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতারা।
ইফতার মাহফিলে প্রণয় কুমার ভার্মা বলেন, পবিত্র রমজান মাস বছরের একটি বিশেষ সময় এবং এই পবিত্র অনুষ্ঠানে আপনাদের সকলকে আমাদের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমরা সম্মানিত।
তিনি বলেন, ইফতার হলো প্রতিফলনের একটি মুহূর্ত। এটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার, আমাদের চারপাশের মানুষদের স্মরণ করার এবং সমগ্র মানবতার মঙ্গল সম্পর্কে চিন্তা করার সময়। এটি এমন একটি মুহূর্ত যখন মানুষ একত্রিত হয়, জীবনের অসংখ্য আশীর্বাদের প্রশংসা এবং উদযাপন করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, এই পবিত্র মাস আমাদের আমাদের বিশ্বাস এবং সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্থায়ী মূল্যবোধ-করুণা, সহানুভূতি, উদারতা এবং দয়ার মতো মূল্যবোধের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ভারতের হাইকমিশনার আরও বলেন, আজ আমরা এখানে সমবেত হওয়ার সময়, আমাদের বন্ধুত্বের দৃঢ় বন্ধনের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের গভীর সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনও আমাদের সম্পর্ককে সত্যিকার অর্থে জনকেন্দ্রিক করে তুলেছে।
‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের ভাগ করা ত্যাগের অমোচনীয় স্মৃতি আমাদের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে চলেছে।’
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘দুটি প্রাণবন্ত এবং দূরদর্শী সমাজ হিসেবে, আমরা একটি আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি; যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি, কেবল আমাদের দুই দেশের জন্যই নয়, বরং বৃহত্তর অঞ্চলেও ভাগ করা সমৃদ্ধি আনতে পারি।’
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আসাদুল হাবিব দুলু, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাশরুর মাওলা, স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহীন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা-১২ আসনের জামাতের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূইয়া, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সমকাল সম্পাদক একে আজাদ চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদার, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান প্রধানও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।