Monday 09 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ
পোস্টাল ভোটে এগিয়ে ছিল জামায়াত, জয়-পরাজয়ে ভূমিকা ২ আসনে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৫

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ফাইল ছবি

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটে’ বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আর বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ ভোট। এ ছাড়া, দুটি আসনে জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে ডাকযোগে দেওয়া এই ভোট।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিস্তারিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো ইসি আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করে। এতে প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের ভেতরে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং কয়েদিরাও ডাকযোগে ভোট দেন।

বিজ্ঞাপন

ইসি কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ভোট দেয়ার জন্য ১৫ লাখ ২০ হাজার ৯৩ জন নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৪টি। মোট বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮৯৮টি। ভোট পড়ার হার ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি পোস্টাল ভোট পেয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৪ ভোট। আর জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৪ ভোট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পেয়েছে ৫২ হাজার ৮৪০ ভোট। বাকি ভোট পেয়েছে অন্যান্য দল। শতকরা হিসাবে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং এনসিপি পেয়েছে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট।

এদিকে দু’টি আসনে জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে পোস্টাল ভোট। সিরাজগঞ্জ-৪ ও মাদারীপুর-১ আসনে এমন ঘটনা ঘটেছে। দুটি আসনেই জয়লাভ করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ ভোট এবং বিএনপি প্রার্থী এম. আকবর আলী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮ ভোট। সে হিসাবে এগিয়ে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী। তবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট যুক্ত হওয়ার পর বিজয়ী হন জামায়াতের প্রার্থী। পোস্টাল ব্যালটে রফিকুল ইসলাম খান ঘরে তোলেন ২ হাজার ১৭৯ ভোট। আর এম আকবর আলী পান ৮২০ ভোট। ফলে জামায়াতের প্রার্থী ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

এ ছাড়া, মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে ৩৮৫ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। পোস্টাল ব্যালটের ভোট যোগ হওয়ার আগে বিএনপির নাদিরা আক্তারের ভোট ছিল ৬৪ হাজার ২৯১টি। খেলাফত মজলিসের হানজালার ভোট ছিল ৬৩ হাজার ৫১১টি। তবে পোস্টাল ব্যালটে হানজালা পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯৮ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার পেয়েছেন ২৩৩ ভোট। ফলে ৩৮৫ ভোটে পিছিয়ে যান বিএনপি প্রার্থী নাদিরা।

এদিকে, সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে পঞ্চগড়-২, ঠাকুরগাঁও-২, ঠাকুরগাঁও-৩ এবং চট্টগ্রাম-১ আসনে। এর সংখ্যা দশমিক ০৮ শতাংশ। অন্যদিকে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৬টি। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স. ম. খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৮ ভোট। বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৫৪৫টি। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবিদুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৬২ ভোট।

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৭৯০টি। আর বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ১ হাজার ৯২০ ভোট। ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪টি। আর বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৮৬৪ ভোট।

কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরিক ও এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৬টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের মো. আ. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ২৪১ ভোট। জেলার প্রতিটি আসনেই জামায়াত জোট বেশি পোস্টাল ভোট পেয়েছে। চাঁদপুর, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুরেও একই অবস্থা।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেনী-৩ আসন থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছিলেন ভোটাররা। এ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন নিবন্ধন করেছিলেন। এতে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ৩ হাজার ১৯৬ পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৩৯ ভোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির (অন্য দল থেকে যোগ দেওয়া প্রার্থীসহ) ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৪টি। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৯টি। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের ভোটের ব্যবধান ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৫টি।

ত্রয়োদশ নির্বাচনে বৈধ ভোট ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ১১৩টি। আর বাতিল হয়েছে ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৮০টি ভোট। নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা ২১১টি আসন পেয়েছেন। আর দলটির দেওয়া প্রার্থীরা সব আসনে পেয়েছে বৈধ ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা পেয়েছেন ৬৮টি আসন। আর দলটির প্রাপ্ত ভোটের হার ৩১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়ে ঘরে তুলেছেন ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ ভোট, যা বৈধ ভোটের ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ছয়টি আসনে জয় লাভ করেছে। দলটির প্রার্থীরা পেয়েছেন ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ ভোট, বৈধ ভোটের ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসন পেলেও দলটির সব প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৭টি, যার শতকরা হার ২ শতাংশ। খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন। ভোট পেয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৩০টি, যার শতকরা হার ০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

গণসংহতি আন্দোলন একটি আসনে জয় লাভ করেছে। মোট ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮১২টি, যার শতকরা হার দশমিক ১৪ শতাংশ। গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫১১ ভোট, একটি আসনে জয়লাভ করলেও দলটির ভোটের হার দশমিক ৩২ শতাংশ। ভোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয়লাভ করলেও মোট ভোট পেয়েছে ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৪০টি। একটি আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি। মোট ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৭৯টি, যার শতকরা হার দশমিক ১৪ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫০টি দলের মধ্যে বাকি ৪১টি দলের কোনোটিই এক শতাংশ ভোটও পায়নি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর