ঢাকা: বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোটে এবার বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব।
আখতার আহমেদ বলেন, এবার কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহার বাড়ানো হবে। আগে একটি কেন্দ্রে একটি বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকলেও এবার প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ক্যামেরা ব্যবহার করা হতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, বগুড়া-৬ এর উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বগুড়ার ক্ষেত্রে আগে গণভোট নেয়া হয়েছিল। তবে শেরপুর-৩ আসনে গণভোটের ভোটসংখ্যা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। এ কারণে সেখানে গণভোটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে যে ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনা ছিল, তার আওতায়ই এই নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনে আট দিনের জন্য আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
এরইমধ্যে নির্বাচনি তদন্ত কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যেসব মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আপিল পাওয়া যায়নি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে কোন আসনে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তিনি জানান, এই নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ওসিভি ও আইসিভি, দুই ধরনের পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা থাকবে। প্রবাসীদের জন্য ওসিভি ব্যালট আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে। আর দেশের ভেতরে থাকা পোস্টাল ভোট গ্রহণ শুরু হবে ২৩ বা ২৪ মার্চের দিকে।
আখতার আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে। তবে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগের নির্বাচনের মতো এবারও কমান্ড, কন্ট্রোল ও কোঅর্ডিনেশনের ওপর জোর দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি। একটি ভালো জাতীয় নির্বাচনের পর এই দুই আসনের নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে, এটাই সবার প্রত্যাশা। তবে কমিশন আত্মতুষ্ট নয়, বরং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইসি সচিব আরও জানান, কেন্দ্রভিত্তিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে পর্যালোচনা করা যায়। ফলাফল ব্যবস্থাপনাও আগের মতোই থাকবে। যেহেতু দুটি আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম, একটিতে ১৫০টি এবং অন্যটিতে ২৮টি কেন্দ্র, তাই দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কমিশন।
পোস্টাল ভোট গণনা শেষ হলেই ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনকে ঘিরে কোনো চাপ বা উদ্বেগের আশঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত কমিশনের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই এবং কেউ এ ধরনের অভিযোগও করেননি।
এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে বিষয়ে বলার সুযোগ হলে যথাসময়ে জানানো হবে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ছিল ৫ মার্চ। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় ৬ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির দিন আজ ১১ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ মার্চ এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে আগামী ১৫ মার্চ। আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।