Thursday 12 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১২ মার্চ ২০২৬ ১০:০৩ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১১:৩১

জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি।

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। এদিন সকাল ১১ টায় শুরু হবে অধিবেশনের কার্যক্রম।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন। এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

বিজ্ঞাপন

আজই সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ভার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বিএনপির সংসদীয় দল। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠকে সংসদ নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম।

নূরুল ইসলাম বলেন, ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা সংসদ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছি। সিদ্ধান্ত তিনি দেবেন। স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। শুরুতে একজন পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করবেন। এরপর সংসদ নেতা এ সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। তারপর ওই সদস্য (যার নাম প্রস্তাব করা হবে) সভাপতিত্ব করবেন।

চিফ হুইপ আরও জানান, প্রথম দিনই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী। এগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য বৈঠকে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সে কমিটিতে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যরাও থাকবেন। এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদারতা দেখিয়ে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনো ‘পজিটিভ রেসপন্স’ পাননি। পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। ১৩তম জাতীয় সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরই মধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায়, প্রথম অধিবেশনে একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা সভাপতিত্ব করবেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান। সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন। তাদের নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের জন্য অধিবেশন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হতে পারে। এরপর নবনির্বাচিত স্পিকার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

প্রথম বৈঠকেই নতুন সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রধান থাকবেন নতুন স্পিকার। এ কমিটিই উদ্বোধনী অধিবেশনের মেয়াদ এবং সংসদের অন্যান্য কার্যসূচি নির্ধারণ করবেন। এ অধিবেশনেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হতে পারে। প্রথম বৈঠকে সংসদে শোক প্রস্তাবও গৃহীত হবে।

বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। এছাড়া স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে, অধিবেশন ঘিরে এরই মধ্যে সংসদ ভবন ঢেলে সাজানো হয়েছে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে ছুটে যান। তারা সেদিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে স্থাপন করা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢুকে মিছিল করেন। ওই দিন সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন (মানিক মিয়া ও নাখাল পাড়া), পুরোনো এমপি হোস্টেল, মন্ত্রী হোস্টেল, সচিব হোস্টেল ও সংসদ ভবন আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংসদ ভবন মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় যৌথভাবে কাজ করেছে। এতে ব্যয় ছাড়িয়েছে প্রায় শতকোটি টাকা।

যোগ দেবে বিরোধীদল

প্রথম অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরাও যোগ দেবেন। বুধবার ১১ মার্চ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিরোধীদলের সংসদীয় দলের সভা সংসদের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ ভবনের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগামীকাল (আজ) ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ বিরোধীদলের সব সংসদ সদস্যদের নিয়ে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিরোধী দল হিসেবে এবং নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দেশ ও জাতির জন্য আমাদের ভূমিকা কী হবে- সেই বিষয়েই মূলত আমরা পরামর্শ করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের সংসদীয় জোটের নির্বাচিত এমপিগণ আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন। আমরা খোলামেলা আলোচনা করেছি এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছি। আমরা চাই জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করুক। ইতোমধ্যেই আমরা ঘোষণা করেছি- বিরোধীদল হিসেবে আমরা একটি দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা সব বিষয়ে বিরোধিতা করব না, আবার না বুঝে কোনো সহযোগিতাও করব না। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকার যে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সে সব ক্ষেত্রে আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। তবে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়- এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হলে আমরা আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী ভূমিকা পালন করব।

এখনই ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে না বিরোধী দল

ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের আমির বলেন, ‘জুলাই সনদেই আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিস মিল; পুরোটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।’

প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কথা বলেছে। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই, জুলাই সনদের সংস্কারের প্রস্তাবগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। এর আলোকে বিরোধী দলের যতটুকু পাওনা, আমরা ততটুকু চাই, এর বেশি চাই না।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর