ঢাকা: দীর্ঘ ২০ মাস পর আজ বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রীতি মেনে প্রথম দিনই জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। চব্বিশের আন্দোলনের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সংসদের প্রথম দিনটি শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনেই সীমিত থাকছে না।
সাংবিধানিক পদে নির্বাচন, অনেকগুলো অধ্যাদেশ উপস্থাপন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ মিলিয়ে নতুন সংসদের প্রথমদিনের কার্যক্রমে অনেকগুলো সূচি থাকছে। এ বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপনের কার্যসূচি রাখা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে জানিয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশ করা দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী, বৈঠকের শুরুতেই থাকবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। এরপর সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন এবং শোক প্রস্তাব নেওয়া হবে।
এরপর উপস্থাপন পর্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন।
অধ্যাদেশের তালিকার শুরুতে রয়েছে- বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৪। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা আইন সংশোধন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশও প্রথম দিকের তালিকায় আছে।
এগুলোর সঙ্গে রয়েছে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংশোধন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী সংশোধন এবং জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা রহিতকরণ অধ্যাদেশ।
তালিকায় আরও রয়েছে- সরকারি চাকরি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট, ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, ভোটার তালিকা, স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদের নির্বাচন এলাকা সীমানা নির্ধারণ, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল সংশোধন, সিভিল কোর্টস অ্যামেন্ডমেন্ট, কোড অব ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর সংশোধন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস সংশোধনের একাধিক অধ্যাদেশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশও কার্যসূচিতে রাখা হয়েছে। এগুলো হলো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি তহবিল’ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ)’ অধ্যাদেশ, ২০২৬।
সাম্প্রতিক সময়ে জারি হওয়া আরও বেশ কিছু অধ্যাদেশও তালিকায় আছে। এর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক, বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, বাংলাদেশ গ্যাস, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৬, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৬ এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ, ২০২৬।
অধ্যাদেশের তালিকার পর উপস্থাপন করা কাগজপত্রে আরও তিনটি বিষয় রাখা হয়েছে। এগুলো হল- জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন, কমিটি গঠন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘এই অধ্যাদেশগুলো যে যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত, সেই মন্ত্রণালয়গুলো এগুলো সংসদে উপস্থাপন করবে। আলোচিত যে অধ্যাদেশগুলো মানুষকে স্পর্শ করে, সেগুলোর ওপর বেশি আলোচনা ও বিতর্ক হবে। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেছেন মানেই যে সংসদ সেটি গ্রহণ করবে বা করতে বাধ্য—এমন নয়। সংসদ স্বাধীন, তারা এটি গ্রহণ করতেও পারে আবার নাও করতে পারে।’
আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘অনেকগুলো মামলাতে সংশোধন হয়েছে। বিশেষ করে সিআরপিসি (ফৌজদারি কার্যবিধি), সিপিসি (দেওয়ানি কার্যবিধি) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। এগুলো যদি অনুমোদন না হয়, তবে সংকট দেখা দেবে। তাই উচিত হবে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের উদ্দেশ্যে যেভাবে এগুলো গ্রহণ করেছে, সেভাবেই আইনে রূপান্তর করা।’