ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির কাজ হচ্ছে এমন কাজ করা, যা করলে দেশের মানুষের উপকার হয় এবং তারা খুশি থাকে। দেশের কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে। আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে এবং খাল পুনঃখননের পর এর দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হবে। পাশাপাশি খালের পাশ দিয়ে সড়কও নির্মাণ করা হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর মৌজার সাহাপাড়ায় ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ৫৩টি জেলায় একযোগে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর দেশের মানুষ ঠিকমতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমেই কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অনেক জায়গায় খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির সংকট তৈরি হয়েছে। খাল খননের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করা হবে। বর্ষার পানিকে ধরে রেখে কৃষিকাজে ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, উজান থেকে যে পানি আসে তা সংরক্ষণ করা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, এ খাল পুনঃখননের ফলে প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এর ফলে বছরে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। এজন্য কৃষি উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের পরিবর্তে খাল ও জলাধারে সংরক্ষিত পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তারেক রহমান জানান, ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ধীরে ধীরে তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একইভাবে আগামী মাস থেকে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। প্রথমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানুষের আয় বাড়ানো এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হবে। এ সময় তিনি বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তায় প্রভাবিত না হয়ে সচেতন থাকার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক। জনগণ পাশে থাকলে যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কর্মসূচিস্থলে যান তিনি। পরে সাহাপাড়ায় নিজ হাতে কোদাল দিয়ে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এলাকাবাসীর আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর হবে এবং কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।