Tuesday 17 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা তালিকা ঘিরে ইসিতে নতুন বিতর্ক

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৭ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪৯

নির্বাচন কমিশন। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের নতুন জ্যেষ্ঠতা (গ্রেডেশন) তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অনুসৃত তালিকা বাদ দিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) গেজেট আকারে প্রকাশিত নতুন এই তালিকায় অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুনিয়রদের নিচে পড়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আইনি জটিলতা ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসি সূত্র জানায়, প্রথম শ্রেণির ৭৩৮ কর্মকর্তার এই তালিকাটি ১৯৭০ সালের জ্যেষ্ঠতার সাধারণ নীতিমালার ভিত্তিতে করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এর আগে একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করে মতামত নেওয়া হলেও চূড়ান্ত তালিকায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। রহস্যজনকভাবে এই পরিবর্তনের ওপর কোনো দাবি বা আপত্তি নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই ‘গোপনীয়তার’ মধ্যে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন তালিকায় দেখা গেছে, আগের তালিকার শীর্ষস্থানে থাকা কর্মকর্তারা অনেক নিচে নেমে গেছেন। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-২ এর প্রধান মো. মঈন উদ্দীন খান (বর্তমানে যুগ্ম সচিবের চলতি দায়িত্বে) আগের তালিকায় ১ম স্থানে থাকলেও নতুন তালিকায় তার অবস্থান ১৪তম। তার অধীনে কর্মরত বেশ কয়েকজন উপ-সচিব এখন তালিকায় তার উপরে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ এর প্রধান মো. আব্দুল হালিম খান ২য় স্থান থেকে ১৫তম অবস্থানে নেমে গেছেন।

মাঠ পর্যায়েও একই চিত্র দেখা গেছে। খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদেরের অবস্থান ৩০০তম হলেও তার অধীনস্থ যশোর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিন রয়েছেন ২৮৩তম অবস্থানে। একইভাবে ফরিদপুর ও রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের চেয়েও তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের অবস্থান তালিকায় উপরে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৫ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ও পরে চাকরিচ্যুত ৮৫ জন কর্মকর্তা আদালতের আদেশে গত বছরের ১৯ আগস্ট পুনরায় চাকরিতে যোগ দেন। আদালতের নির্দেশ ছিল তাদের চাকরির বাইরে থাকা সময়কালসহ সব বকেয়া সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই কর্মকর্তাদের ২০১৬ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে ‘নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১১’ উপেক্ষা করে নতুন কমিটি গঠন ও তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, নতুন তালিকায় সহকারী সচিব, জেলা নির্বাচন অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে সমপদ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বিধিমালার ৪(২) ধারার পরিপন্থী। এ ছাড়া, বিভাগীয় পদোন্নতিপ্রাপ্তদের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের উপরে রাখা হয়েছে, যা ৪(৩) ধারার লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তাদের মতে, ২০১৬ সালের তালিকা অনুযায়ী গত ১০ বছর ধরে পদোন্নতি ও উচ্চতর স্কেল দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন তালিকা কার্যকর হলে পুরো প্রশাসনিক কাঠামোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং চলমান পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যেতে পারে। তারা ২০১৬ সালের চূড়ান্ত তালিকাকে ভিত্তি ধরে পুনর্বাসিত কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের আদেশে নতুন যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে পুরো বিন্যাস পরিবর্তন করতে হয়েছে। যাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আগে হয়েছে এবং যারা উচ্চতর পদে যোগ দিয়েছেন, বিধি অনুযায়ী তাদের নাম উপরে উঠে এসেছে।’

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের তালিকায় কিছু অসঙ্গতি নিয়ে অনেকের আপত্তি ছিল, তাই ১৯৭০ সালের নীতিমালাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সারাবাংলা/এনএল/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর