ঢাকা: আজ শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬ (৩০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি)। সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র জুমাতুল বিদা। রমজানের শেষ শুক্রবার হওয়ার কারণে মুসলিম বিশ্বে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন।
জুমাতুল বিদার অর্থ ও গুরুত্ব
আরবি ‘বিদা’ শব্দের অর্থ হলো বিদায়। জুমাতুল বিদা মানে রমজান মাসের শেষ শুক্রবারের বিদায়ী জুমা। মুমিন মুসলমানদের কাছে এ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পবিত্র রমজান মাস আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিচ্ছে। জুমার দিন এমনিতেই সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এর ওপর রমজানের শেষ জুমা হওয়ায় এই দিনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত ও দোয়া করা হয়।
ইবাদত ও বিশেষ মোনাজাত
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে নামাজের আগে খতিব ও আলেমরা জুমাতুল বিদার তাৎপর্য এবং রমজানের পরবর্তী জীবন কীভাবে গঠন করতে হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক খুতবা প্রদান করবেন।
নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হবে। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির জন্য দোয়া করা হবে। সেসঙ্গে ফিলিস্তিনসহ সারাবিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।
এ বিষয়ে হাদিসে রয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাস এলে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।’ (সহিহ বুখারী ও মুসলিম)।
আল-কুদস দিবস ও জুমাতুল বিদা
জুমাতুল বিদার এই দিনটিকে বিশ্বব্যাপী ‘আল-কুদস দিবস’ হিসেবেও পালন করা হয়। বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদকে দখলমুক্ত করার দাবিতে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশে এই দিনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ইবাদতের পাশাপাশি মুসলিম জাহানের সচেতনতা বৃদ্ধির দিনও এটি।
উল্লেখ্য, জুমাতুল বিদা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে আরও বেশি নেক আমল করার শপথ নেওয়ার দিন। এ দিনটি আমাদের শিক্ষা দেয় ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার।