ঢাকা: এক মাস সিয়াম সাধনার পর সারাদেশে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ উদযাপিত হচ্ছে। যখন চারদিকে ঈদের আনন্দ আর কোলাহল, ঠিক তখনই রাজধানীর বাস টার্মিনালে দেখা গেছে ভিন্ন এক দৃশ্য। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে ঈদের দিন সকালেও অনেকেই ঢাকা ছাড়ছেন। কেউবা ঈদের নামাজ পড়েই স্টেশনে ছুটেছেন, আবার কেউ সেহরির পর রওনা হয়ে পথে ঈদ পালন করছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
বাস কাউন্টারে দেখা যায়, ঈদের দিনেও অনেক কাউন্টার খোলা রয়েছে। কিছু যাত্রী এসে ভিড় জমাচ্ছেন। যাত্রীরা টিকিট কেটে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। পরিবহন শ্রমিকরা হাঁকডাক ছেড়ে গন্তব্যের যাত্রী খুঁজছেন। মূলত পেশাজীবী মানুষের ছুটি না হওয়ায় তারাই বেশিরভাগ একা এবং পরিবার নিয়ে আজ বাড়ি ফিরছেন। কেউ ছুটছেন শ্বশুরবাড়ি, কেউ আবার ছুটছেন আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি।
এদিকে, গত কয়েক দিনের অসহনীয় ভিড় ও যানজট এড়াতে পরিকল্পিতভাবেই অনেকে আবার ঈদের দিনকে বেছে নিয়েছেন। যাত্রীদের মতে, ঈদের দিন রাস্তা ফাঁকা থাকে এবং ভ্রমণ কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়। রাস্তা ফাঁকা থাকায় যাত্রা অনেকটা আরামদায়ক হলেও, অনেকের মনেই রয়েছে কিছুটা বিষণ্নতা। পরিবারের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তে না পারার আক্ষেপ থাকলেও, অন্তত ঈদের বাকি সময়টা প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর আশায় তারা বিভোর।
গাবতলীতে অপেক্ষমাণ যাত্রী আরমান হোসেন বলেন, গতকাল রাতেও শো রুমে অফিস ছিল। ভোরে নামাজ পড়ে স্টেশনে এসেছি। ইনশাআল্লাহ সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি পৌঁছে পরিবারের সাথে ঈদের সেমাই খেতে পারব।
রাজশাহীগামী মনির হোসেন বলেন, মিরপুরে একটি দোকানে কাজ করি। ছুটি হয়েছে চাঁদরাতে। তাই আজ পরিবার নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি।
শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার ফারুক হোসেন বলেন, টুকটাক যাত্রী আছে। যাত্রী কম থাকায় বাস ছাড়তে কিছুটা দেরি হচ্ছে। যারা ঈদের ছুটি পাননি চাঁদরাতে ছুটি পেয়েছেন তারাই আজ বাড়িতে যাচ্ছেন। অনেকে বিভিন্ন মার্কেট দোকানে জব করেন তারা তো আগে থেকে ছুটি পান না। এই যাত্রীগুলো সাধারণত ঈদের দিন যাতায়াত করেন। সকাল থেকে এখন আমাদের দ্বিতীয় ট্রিপ চলছে। প্রথম ট্রিপের গাড়ি ভরে ছেড়ে গেছে।
হানিফ, ইগল, রয়েল ও পূর্বাশা পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানা যায়, টুকটাক যাত্রী আছে। যেটা গতকালও তেমন ছিল না। যাত্রী কম থাকায় গাড়ি দেরিতে ছাড়া হচ্ছে। তবে যাত্রাপথে কোনো ভোগান্তি হচ্ছে না, গড়ি ছাড়ার পর দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।