ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সবগুলো অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষ কমিটির সভাপতি।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রথম দিনে অর্ধেকেরও কম অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা গেছে। কিছু বিষয়ে সদস্যদের ভিন্ন মত আছে, সেগুলো পরের বৈঠকে আবার আলোচনা হবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি বলেন, আজকে প্রায় আমরা অর্ধেক পর্যন্ত, অর্ধেকেরও কিছু কম হবে, পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। কিছু বিষয়ের ওপর দুই-একজন সদস্যের কিছু কিছু মতামত আছে; সেগুলো পরবর্তী সভায় আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে লিখিত মতামতও নেওয়া হবে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর ২টায় কমিটি ফের বৈঠকে বসবে জানিয়ে তিনি বলেন, ২ এপ্রিলের আগেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। সংসদে কবে উত্থাপিত হতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটি পরে সংসদ ঠিক করবে। তবে সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই হতে পারে।
যেসব অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং মোনাজাত করা হয়।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনা হওয়া ৪০টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে- দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী সংশোধন, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংশোধন, বৈদেশিক অনুদান রেগুলেশন সংশোধন এবং বাংলাদেশ বেসরকারি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ অধ্যাদেশ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যেসব অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং নিয়োগের বয়সসীমা নির্ধারণসংক্রান্ত সংশোধনী অধ্যাদেশ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যেসব অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে আছে- জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা রহিতকরণ, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ।
এছাড়া ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি সংশোধন, মাছ সংরক্ষণসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংশোধন, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন সংশোধন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশোধনের দুটি অধ্যাদেশ, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট সংশোধন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার সংশোধন, পরিত্যক্ত বাড়ি সম্পূরক বিধানাবলি সংশোধন, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা হয়।
পরবর্তী বৈঠকে বাকি অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মাওলা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।