ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাঁকজমকপূর্ণভাবে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্যারেড মাঠে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.) এবং তিন বাহিনী প্রধানগণ রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, সংসদ সদস্যরা, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং বিদেশি কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। সেইসঙ্গে এই কুচকাওয়াজে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

প্যারেডে সালাম প্রদর্শন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সাভার এরিয়া মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক এবং প্যারেড উপ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেড এর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাফকাত-উল-ইসলাম। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর সর্বমোট ২৫টি কন্টিনজেন্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করেন।
কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সম্মিলিত যান্ত্রিক বহরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেড এর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ার উজ জামান, পিপিএম, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি। সুসজ্জিত বাহনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদানসহ যান্ত্রিক বহরে সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সমরাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও, আমি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, বিজিবি এয়ার উইং ও র্যাব ফোর্সেস এর ফ্লাইপাস্ট এবং দুঃসাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প কুচকাওয়াজকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে।
যান্ত্রিক বহরের প্রদর্শনীর পরপরই শুরু হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এক মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে। বিমান বাহিনীর ফ্লাইপাস্টের নেতৃত্ব দেন এয়ার কমোডর মেহেদী হাসান।
নতুন প্রজন্মের নিকট মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারসহ রাজধানীর নিদিষ্ট সড়কগুলোতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের চেতনা সম্বলিত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। এই সব ব্যানার ও বিলবোর্ডসমূহের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা বাঙালি জাতির অমর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হয়। এছাড়াও, প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সব বাহিনীর উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের ছবি প্রদর্শিত করা হয়।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজ ২০২৬ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়।