ঢাকা: ভোরের আলো ফুটতেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভরে ওঠে জনস্রোতে। শ্রদ্ধাবনত চিত্তে দেশবাসী শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বীর শহিদদের। তবে এই ভিড়ের মাঝে আলাদাভাবে নজর কাড়ছে নতুন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তাদের লাল-সবুজ পোশাকে, হাতে থাকা ছোট পতাকা এবং চেহারার উদ্দীপনা যেন স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণের নতুন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তেমনি এক ছোট্ট প্রতিমা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল একটি ছোট্ট মেয়ে। তার হাতে লাল ফুল, লাল-সবুজ জামা আর চোখে ছিল স্বাধীনতার আনন্দ ও গর্বের এক উজ্জ্বল আভা। এক হাতে সে ধরে ছিল বাংলাদেশের বড় একটি পতাকা, যা সে সগর্বে উড়িয়ে দিচ্ছে। স্মৃতিসৌধের পাদদেশে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে সাজানো চত্বরে দাঁড়িয়ে সে যেন নতুন এক প্রজন্মের প্রতীক। এই ছোট্ট মেয়েটির চঞ্চল হাসিতেও ছিল যেন সুশাসন, সাম্য ও শোষণমুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষা। সে জানে না হয়ত এই শব্দগুলোর জটিল সংজ্ঞা, কিন্তু তার মন চাইছে এক শান্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ। তার প্রজন্মের জন্য এক নিরাপদ, সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের সবার পবিত্র কর্তব্য।
অসংখ্য ফুলের মালায় ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ লেখা কাগজের পাশাপাশি হয়ত এক অদৃশ্য লেখা ছিল: ‘আমাদের অঙ্গীকার-নতুন বাংলাদেশ’। সেদিনের সেই উৎসবমুখর ও শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশে নতুন প্রজন্মের অংশীদারিত্ব প্রমাণ করে, স্বাধীনতার চেতনা এখনও নতুন নতুন মন জয় করে চলেছে। সাভারের স্মৃতিসৌধে আসা এই তরুণরা যেন স্বাধীনতার প্রতিটি অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার শক্তি সঞ্চয় করছে।
তাদের অঙ্গীকারই হবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি, যেখানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সুসংহত হবে এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে।