ঢাকা: দেশের যোগাযোগ খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করছে বিএনপি নেতৃত্বধীন সরকার। এই রোডম্যাপের আওতায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে তৈরি হতে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যানজট চিরতরে দূর করতে তৈরি হবে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং দেশের অর্থনীতির চাকা আরও সচল করতে নির্মিত হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে।
রোববার (২৯ মার্চ) সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নথি থেকে এই তিনটি মেগা প্রজেক্টের এই তথ্য জানা গেছে। গত ১ মার্চ ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রাক্কলন এবং পরবর্তী দুটি অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রক্ষেপণ নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে এই বৃহৎ প্রকল্পগুলোর সময়সীমা ও রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সেতু বিভাগের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সংযোগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত বহুমুখী সেতুটি পাটুরিয়া ও গোয়ালন্দকে যুক্ত করবে এবং জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ গণমাধ্যমে বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং এই সেতু নির্মাণ বিষয়ে প্রাইমারি স্টাডি (সমীক্ষা) শুরু হয়েছে। যদিও আগের একটি স্টাডি রয়েছে, তবুও এখন নতুন করে স্টাডি করতে হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ সেতু নির্মাণে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ ও আরিচা-নগরবাড়ি নির্ধারিত থাকলেও—স্টাডি সম্পন্ন হওয়ার পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। স্টাডি করার পর বোঝা যাবে, কোথায় করলে সেতুটি লাভজনক হবে।
অন্যদিকে, ২০৩৩ সালের মধ্যে যমুনা নদীর ওপর আরেকটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করতে চায় সেতু বিভাগ। বর্তমানে তিনটি সম্ভাব্য রুটের ওপর সমীক্ষা চলছে। এরমধ্যে রয়েছে বগুড়া থেকে জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত রুট। সেতুটির চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণের পর এর দৈর্ঘ্য ও নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলন করা হবে।
এ বিষয়ে সচিব বলেন, যমুনা সেতুর সংযোগ সড়কগুলো ছয় লেনে উন্নীত হওয়ায়, সড়কে দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচলের পর সেতুর সংকীর্ণতার কারণে, হঠাৎ করেই সেতুর কাছে যেয়ে স্লো হয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ কোথায় করা যায়, দৈর্ঘ্য কেমন হবে এবং কত টাকা ব্যয় হবে, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।”
এদিকে দেশের অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে এবং এই চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের চাহিদার কথা চিন্তা করে দ্রুত পণ্য ও আমদানি-রফতানি মালামাল পরিবহনে এক্সপ্রেসওয়ে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা।
তবে, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ বিদ্যমান ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করলেও, সেতু বিভাগ সেখানে দ্রুতগতির নির্বিঘ্ন যান চলাচলের জন্য একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
কর্মকর্তারা জানান, আমদানি-রফতানি ও পণ্য পরিবহনে গতি আনতে এই এক্সপ্রেসওয়েকে দেশের পূর্ব-পশ্চিমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে এটিকে ‘আউটার রিং সার্কুলার’র মাধ্যমে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাস্টারপ্ল্যানও সরকারের রয়েছে।
বর্তমানে সেতু বিভাগের আওতায় চলমান ও ভবিষ্যৎ মিলিয়ে মোট ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভবিষ্যতের এই নতুন মেগা প্রজেক্টগুলোর জন্যই সিংহভাগ অর্থাৎ ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।