ঢাকা: ধর্ষণসহ যেকোনো ধরনের নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে, এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও নির্দেশনাবিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সচিব ইয়াসমীন পারভীনসহ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দফতর-সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা।
সভার শুরুতেই মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সচিব ইয়াসমীন পারভীনকে অভিনন্দন এবং স্বাগত জানান। তিনি বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাজকে অধিকতর গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেন।
প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচি প্রণয়ন এবং পণ্য বিপণনে সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দিয়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করার জন্য জয়ীতা ফাউন্ডেশনকে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন তিনি। কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারকরণসহ ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা, হোস্টেলের সীট সংখ্যা বাড়ানো এবং জেলা পর্যায় পর্যন্ত এর পরিসর বাড়ানোর ব্যাপারে নির্দেশনা দেন তিনি। প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রামাঞ্চলে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের দিকেও অধিকতর নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। জাতীয় মহিলা সংস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানো প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিসর বাড়ানো এবং শিশুর মানসিক বিকাশে এ একাডেমির অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে মন্ত্রী জোর দেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের বিকাশে কী কী কাজ করা যায় সে বিষয়ে সমন্বয় সাধন করার জন্যও নির্দেশনা দেন।
কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের যত্নের বিষয়টি মাথায় রেখে ডে-কেয়ার সেন্টারের উন্নয়নে কী কী কাজ হাতে নেওয়া যায় সে বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার বিষয়ে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের কাজ করার নির্দেশনা দেন।
সভায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা শীর্ষক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা।