ঢাকা: আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে দেশব্যাপী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি ক্রীড়াবিদদের মাঝে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ যারা বিজয়ীর পুরস্কার নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেরই প্রতিপক্ষ ছিল। প্রতিপক্ষ ছিল বলেই আপনি বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছেন। সুতরাং খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয় বরং জয়েরই একটা অংশ।” আলবার্ট আইন্সটাইনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি সে কখনো কিছু করেইনি।”
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো। যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে।”
দেশের প্রতিটি খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-খতিবদের সম্মানী ভাতা ও খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’।”
শিক্ষা ব্যবস্থায় খেলাধুলার গুরুত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সন্তানেরা পড়ালেখার পাশাপাশি ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলায় যাতে পারদর্শী হয়ে ওঠে, সেজন্য শিক্ষা কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
প্রতিভা অন্বেষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে সারা দেশে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।”
খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠুন। বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।”