ঢাকা: বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারির এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে জ্বালানি, শিক্ষা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল উভয়ই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই দুই দেশের জন্যই সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন অপরিহার্য।
মন্ত্রী এ সময় পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বর্তমান উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেপালের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি তার দেশে বন ব্যবস্থাপনার সাফল্য তুলে ধরে জানান, নেপালের প্রায় ৪৫ শতাংশ এলাকা বর্তমানে বনভূমি। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বিমসটেকের আওতায় যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই বন ব্যবস্থাপনায় একে অপরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় দেশের প্রতিনিধিরা মনে করেন, পারস্পরিক এই অংশীদারিত্ব দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সবশেষে তারা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।