ঢাকা: সারাদেশে অসহনীয় যানজট নিরসন এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মধ্যরাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে।
সচিবের দেওয়া তথ্যমতে, বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে স্কুল ছুটির সময় শত শত ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে যে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, তা লাঘব করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করবে। এই উদ্যোগের ফলে স্কুলগুলো নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থা জোরদার করতে উৎসাহিত হবে এবং রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। তবে এই সুবিধার আওতায় কোনো ধরনের পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড বাস আমদানি করা যাবে না, শুধুমাত্র নতুন ইলেকট্রিক বাসই এই ছাড়ের আওতায় থাকবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্যও ইলেকট্রিক বাস আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ব্যাপক হারে কমিয়ে মাত্র ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান যে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে খুব শীঘ্রই পৃথক নির্দেশনা জারি করা হবে যা আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকেই কার্যকর হতে পারে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারের এই পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে, তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা বা সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের অনিশ্চয়তা। যেহেতু বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানিনির্ভর, তাই বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকট দেশীয় অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করছে। এই চাপ সামাল দিতে এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিদ্যুৎচালিত পরিবহণ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বর্তমানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তানের মতো বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সামগ্রিকভাবে ইলেকট্রিক বাস আমদানির এই সিদ্ধান্তটি পরিবেশ রক্ষা, যানজট মুক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয়ে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে এর সঠিক তদারকি নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং সেলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।