ঢাকা: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ পদক্ষেপটি কোনো প্রতিহিংসা নয় এটি ন্যায়বিচার বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে এ সম্পর্কিত আইন পাস হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ কোনো প্রতিহিংসা থেকে নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়ের পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা একটি সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ভালোবেসে মানুষের হৃদয় জয় করব।’
তিনি বলেন, তারেক রহমান নিজেকে বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনে করেন—সেটি তাকে ভোটদানকারী হোক কিংবা না হোক। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, নতুন এই আইনের অধীনে বিচার প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। যারা প্রকৃত অপরাধী কেবল তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে এবং নিরপরাধ কাউকে কেবল দলীয় পরিচয়ের কারণে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার হতে হবে না। শেখ হাসিনা বা বিগত সরকারের আমলে হওয়া অপরাধগুলোর বিচারও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
সংসদীয় কার্যক্রমের গতিপ্রকৃতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী এবং যারা অতীতে নানা চড়াই-উতরাই ও নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজনীতিতে টিকে আছেন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবিধানের মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্য নারীদের বেছে নেবেন যাতে সংসদের কার্যক্রমে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
নারীদের ক্ষমতায়নে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নারীরা নেতৃত্বে যত দ্রুত আসবে, দেশের উন্নয়ন তত ত্বরান্বিত হবে।
সংসদের বর্তমান কর্মব্যস্ততা সম্পর্কে নূরুল ইসলাম জানান, দেশের মানুষের দেওয়া আমানত রক্ষায় সংসদ সদস্যরা দিনরাত কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ৪৪টি অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে এবং বাকি থাকা ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হবে। কাজের তীব্র চাপের কারণে আগামী শুক্রবারও সংসদের অধিবেশন চলবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। শুক্রবারের প্রথম ও দ্বিতীয়, উভয় সেশনেই কাজ চলবে, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা হতে পারে।
চিফ হুইপ বলেন, মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে তাদের জন্য পরিশ্রম করতে, আমরা সেই দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।
এ ছাড়া মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে সদস্যদের সংসদীয় শিষ্টাচার ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।