ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে সরকার। সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে নয়টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে খরচ কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়।
এর আগে গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, যা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারি সেবা ও কার্যক্রমের গতি সচল রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
- সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।
- প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
- সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।
- ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
- সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ কমাতে হবে।
- সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
- আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
- ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমাতে হবে।
বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারের এই নয় দফা নির্দেশনা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।