ঢাকা: দেশের কৃষি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারদের বাদ দিয়ে নতুন ডিলার নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত এক আলোচনায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সার সরবরাহ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলের অর্থপাচার ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশেরও দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম দেশের বিদ্যমান সার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সংসদকে জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে যে সকল সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তারা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই ডিলাররা সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে সার উত্তোলন করছেন না এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
চিফ হুইপ সংসদের পক্ষ থেকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান যেন ওই সব ডিলারদের নিয়োগ বাতিল করে দ্রুত নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়, যাতে ফ্যাসিস্ট দোসরদের প্রভাবমুক্ত হয়ে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পেতে পারেন।
এ সময় সরকারদলীয়সহ উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
সংসদ সদস্যদের দাবির প্রতি তাৎক্ষণিক সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পুরো সংসদ যেহেতু বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং একটি যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করেছে, তাই সংসদের সম্মতি থাকলে সরকার অতি দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিবে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন।
একই অধিবেশনে অর্থপাচার ও দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের (মুন্সিগঞ্জ-৩) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পাচার করা অর্থ উদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। এরই মধ্যে চিহ্নিত ১০টি দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অবশিষ্ট সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, কেবল ডিলার নিয়োগ কিংবা শ্বেতপত্র প্রকাশই নয়, বরং দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে পাচার হওয়া প্রতিটি টাকা উদ্ধার করতে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় সকল অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হবে।