Thursday 07 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩ মে ২০২৬ ১৪:০৪ | আপডেট: ৩ মে ২০২৬ ১৬:৫৪

ডিসি সম্মেলনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আমরা অবস্থার পরিবর্তন করছি।

রোববার (৩ মে) দুপুরে ওসমানী মিলনায়তনে ৪ দিনব্যাপি জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি, লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে। দেশকে আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছে। দেশে দারিদ্র্য এবং বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা চাই সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি কিংবা পদায়নের মূলনীতি। তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুলস প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনের যারা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, আমি প্রথমেই আপনাদেরকে আন্তরিক অভিনিন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে, জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব।

জনপ্রশাসনের বিভিন্ন ‘পদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তোবা লাভবান হতে পারেন। তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

পদায়নের দুর্নীতি সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই জনপ্রশাসনকে দুর্নীতিপরায়ণ এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ বলে আমার মনে হয়। আমার ধারণা, আমার এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আপনারা একমত। সুতরাং, আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই ‘গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য’ ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানেই যে কোনো সময় জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন। আপনাদেরকে মনে রাখা জরুরি, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জন প্রশাসনের যে-কোনো স্তরের কর্মকর্তাগণ যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যে কোনো সময়, যে কোনো পদে, দেশের স্বার্থে যে কোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন, আমার বিশ্বাস, জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনারা, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণই জনপ্রশাসনের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতুবন্ধন। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপর সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুদক সবকিছুই ছিল অকার্যকর। শিক্ষা – স্বাস্থ্য সব সেক্টরেই ছিল ভঙ্গুর অবস্থা। অপরদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কোনো দেশই রেহাই পায়নি। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা যায় সরকার সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশকে বন্যা খরা থেকে মুক্ত রেখে সরকার সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় সারা বছর কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে সরকার এক্সকেভেটরের পরিবর্তে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন -পুনঃ খননের কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে একদিকে আমরা কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে পুনরায় কৃষি বিপ্লব শুরু করতে চাই।

তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ‘বদ্ধপরিকর। এনিয়ে কারও মনে কোনো সংশয়ের কারণ নেই। আমি আশা করি আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি, দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

ডিসিদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলভিত্তি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার, এর সঙ্গে আপস নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা, ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একইসঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইনকানুন ও জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে জনগণ সময়মতো সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত সুফল লাভ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। সুতরাং, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও সময়ের সঙ্গে মোকাবেলায় নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরো সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করা যায় সেটি নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, এই সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা নয়, বরং এটি এমন একটি পরিসর, যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হতে পারে। আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক দূত। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। ইচ্ছেমতো যাতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে কিংবা মজুতদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি অপচেষ্টা করতে না পারে এ জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কৃষকদের কথা উল্লেখ করে বলেন, কৃষক যেন তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় পাশাপাশি কৃষকের জন্য সার, বীজ, সেচ, সংরক্ষণ সুবিধা এবং বাজারজাতকরণের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। কৃষিকে শুধু উৎপাদনের বিষয় হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ জনগণের শহরমুখিতা হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নিয়ামক হিসেবে দেখতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কে তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যকর, নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করতে হবে। যাতে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপরাধ দ্রুত দমন করা সম্ভব হয়। জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করা, সরকারি সেবাকে হয়রানিমুক্ত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারি কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীরা যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানি, বিলম্ব কিংবা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। জনগণের যে কোনো ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বিষয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রো-অ্যাকটিভ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনপ্রশাসনকে গণমুখী না করা গেলে জনগণ সরকারের কার্যক্রমের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।

তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সরকারের যাবতীয় গণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকার জনপ্রশাসনের উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে সরকার দেশে বিদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জনস্বার্থে স্বেচ্ছাসেবামূলক অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ধর্মীয় সামাজিক মুল্যবোধগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না। জাতীয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু দেশের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. শহিদুর রহমান চৌধুরী ও নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন।

 

বিজ্ঞাপন

আবারও বাড়ল সোনার দাম
৭ মে ২০২৬ ১১:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর