যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে তার মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে লিমনের মরদেহ পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন জানাজায় শরিক হন।
উল্লেখ্য, লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুঘরবেহ লিমনের রুমমেট ছিলেন।
লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দুই দিন পর গত ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছশিকারি কায়াক চালানোর সময় একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যেখানে জামিলের মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে, এলাকাটি এর কাছেই। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পায়। তবে খণ্ডিত অংশগুলো এমন অবস্থায় ছিল যে পুলিশ সেগুলো শনাক্ত করতে পারছিল না। ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশ বৃষ্টির।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুঘরবেহ লিমনের রুমমেট ছিলেন।