ঢাকা: বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিমান উন্নয়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে ঝরে পড়া রোধে “মিড ডে মিল” কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বর্তমান সরকার।
মঙ্গলবার (৫ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় ধরে তার নির্বাচনি ইশতেহার ও বিভিন্ন জনসভায় শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষার প্রসারে এই কর্মসূচির অপরিহার্যতা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন একটি মেধাবী জাতি গঠনে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ অপরিহার্য, আর সেই লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে তার সরকার দায়বদ্ধ।
সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন লওসন পার্চমেন্টের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির ডেপুটি হেড অব প্রোগ্রাম মেরিব্যাথ ব্লাক, হেড অব সাপ্লাই চেইন ক্যাথরিন ক্লেয়ার, হেড অব স্কুল ফিডিং ইমা ক্লারা লেফু এবং সিনিয়র পার্টনারশিপ অ্যাডভাইজার মো. মহসিন।
বৈঠকে বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে পরিচালিত স্কুল ফিডিং বা “মিড ডে মিল” কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং তাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মসূচিটিকে আরও সমৃদ্ধ করার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা এবং পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।
এ সময় কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, প্রকল্পটিকে মাঠ পর্যায়ে আরও কার্যকর করতে মনিটরিং ও সুপারভিশন ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি তদারকি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধিদল এই প্রক্রিয়ায় কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।