Tuesday 12 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

আ.লীগকে থুথু দেবে জনগণ— জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে স্পিকার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১২ মে ২০২৬ ১৫:৫৬

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান যুগ যুগ ধরে বাঙালিদের অনুপ্রাণিত করবে এবং এই জাদুঘরটি হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক বিশাল সম্পদ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

মঙ্গলবার (১২ মে) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় স্পিকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন ‘কলঙ্কিত ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনা যে সরাসরি তার বাহিনীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই অডিও কলরেকর্ড এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তিনি আরও যোগ করেন, এই জাদুঘর যতদিন টিকে থাকবে, দেশের মানুষ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের মুখে থুথু দেবে। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য মানুষ যে হাসিমুখে জীবন দিতে পারে, এই জাদুঘর তারই প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

জুলাই জাদুঘরটি দেখে নিজের অভিভূত হওয়ার কথা জানিয়ে স্পিকার বলেন, এখানে বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের মহৎ ইতিহাস— একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের মহান গণঅভ্যুত্থানের চিত্র অত্যন্ত চমৎকারভাবে ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এখানকার প্রদর্শনী দেখলে অশ্রু সম্বরণ করা কঠিন। যেভাবে এ দেশের তরুণ ও শিশুরা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, তা সারা বিশ্বের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। এখানে শহিদদের লেখা কিছু চিঠি সংরক্ষিত আছে, যা তারা বুক পকেটে নিয়ে রাজপথে এসেছিলেন। তারা জানতেন যে মৃত্যু হতে পারে, তবুও তারা হেসে হেসে মৃত্যুর মোকাবিলা করেছেন।

শহিদদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, শেষ চিঠি, দুর্লভ আলোকচিত্র এবং তাদের মা-বাবার প্রতিকৃতি এখানে স্থান পেয়েছে। শহিদ মিনারে বিশাল গণসমাবেশ এবং রাজপথে লাখো মানুষের যে চিত্র, তা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, হেলিকপ্টার থেকে শিশুদের ওপর গুলি চালানো কিংবা আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের মতো ছাত্রদের হাসিমুখে বুক পেতে দেয়ার দৃশ্যগুলো সকলকে আবেগাপ্লুত করবে। গত ১৬ বছর ধরে মাফিয়া নেত্রী শেখ হাসিনা ও তার গোষ্ঠী যেভাবে পাতানো নির্বাচন ও লুটপাট চালিয়েছে, তার সঠিক চিত্র এখানে দেখা যাবে। নিজের হাতে হত্যা করিয়ে আবার শহীদদের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেয়ার যে অভিনয় তিনি করেছেন, তা ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। এই জাদুঘর যতদিন থাকবে, মানুষ এখানে এসে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাবে এবং গণতন্ত্র রক্ষার অনুপ্রেরণা লাভ করবে।

সারাবাংলা/এফএন/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর