ঢাকা: সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মিজানুর রহমান সিনহার মেয়ে তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ সারাবাংলাকে তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। তিনি সিনহার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মিজানুর রহমান সিনহার মরদেহ আজ রাতে দেশে আনার কথা আছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সবশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পান মিজানুর রহমান সিনহা। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্থলে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল সালাম আজাদকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার বাবার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। তার স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সবার জন্য উন্মুক্ত।
সিনহা শৈশবে কলকাতায় বেড়ে উঠেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।
১৯৬৪ সালে সিনহা হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি বাবার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
মিজানুর রহমান ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।