Wednesday 27 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের আগে মসলার দামে ঊর্ধ্বগতি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৭ মে ২০২৬ ২০:২১

মসলার বাজার।

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে মসলার দাম বেড়েছে। কোরবানির প্রধান অনুষঙ্গ এসব মসলা কিনতে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দাম বৃদ্ধিতে অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

বাজারে ছোটো এলাচ, আদা, লবঙ্গ, দারুচিনি, পেঁয়াজ ও শুকনা মরিচসহ প্রায় সবধরনের মসলাই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ক্রেতারা।

এ বিষয়ে বিক্রেতাদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যসহ ভারত, চীন, ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ব্রাজিল থেকে বেশিরভাগ মসলা আমদানি হয়। তবে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও দামের ওঠানামার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, কারওয়ান বাজারে বর্তমানে ছোটো এলাচ প্রতি কেজি ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কেজিতে দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ধনেগুঁড়া ৩০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের মসলা বিক্রেতা রহমান আলী বলেন, ‘ঈদের পাঁচ-ছয় দিন আগে থেকে আমাদের মসলার বিক্রি অনেক বেড়েছে এবং আমরা এখন দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছি। বাজারে কোরবানির পশু কেনাবেচা যত বাড়ে, আমাদের মসলার চাহিদাও তত বাড়তে থাকে।’

এ ছাড়া, বাজারে আলুবোখারা ও পেস্তাবাদামের দামে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এসব পণ্য মূলত ইরান থেকে আমদানি করা হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে আলুবোখারা কেজি প্রতি প্রায় ৫০০ টাকা থাকলেও এখন ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেস্তাবাদাম ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। কাঠবাদামের দামও কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে।

অন্যান্য মসলার মধ্যে কিশমিশ ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, তেজপাতা ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, জয়ফল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং জয়ত্রী ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় জিরা, রসুন, ধনেগুড়া ও তেজপাতার দাম কিছুটা কম রয়েছে।

এদিকে, দেশি পেঁয়াজ ও আদার বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, যা এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে শুকনা মরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে ৪০০ থেকে ৪৬০ টাকায় পৌঁছেছে।

ক্রেতা সেলিম ব্যাপারি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে কোরবানি ও রান্নার জন্য আমি মসলা কিনতে এসেছি। কিন্তু বাজারে এসে দেখি, প্রায় সব মসলার দামই আগের চেয়ে অনেক বেশি এবং একেকটা পণ্যে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে, যা শুনে আমার বাজেট মেলাতে কষ্ট হচ্ছে।’

সাধারণ ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি ঈদের আগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থির করে তোলে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে দেশে রাতারাতি দাম বাড়ানো হলেও কার্যকর বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। উৎসবের সময় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।

সারাবাংলা/এফএন/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর