ঢাকা: ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, পলাতকদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই আইসিটিতে মামলা চলমান। আবার অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান। অনেকের বরখাস্ত কার্যকর হয়েছে। অনেকে ওএসডি আছে। কাজেই পলাতক অপরাধীদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’ প্রায় সব ধরনের অপরাধ কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য ২০২৫ সালের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি মাসে ডাকাতি, হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় চলতি সময়ে প্রায় সব শ্রেণির অপরাধই কমেছে।’
পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করবে জনগণ। তবে সরকারের দৃষ্টিতে পুলিশকে আরও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তরের প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে, যাতে তারা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’ একই সঙ্গে তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকার ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতিতে বিশ্বাস করে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের আগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তে ভূমিকা রাখা ৯ জন পুলিশ সদস্য, রাজবাড়ীর ফেরিঘাটে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনকারী ৩ জন এবং একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখা ২ জন পুলিশ সদস্য পুরস্কৃত হন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা, সনদপত্র এবং বিশেষ ক্ষেত্রে আইজিপি ব্যাজ প্রদান করা হয়।