ঢাকা: বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘দলটির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার শেষে আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, তা নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় যদি প্রমাণিত হয় যে দলটি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাহলে আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, ‘বিচারাধীন অবস্থায় সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯-এর আওতায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে দলটি যদি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে, সেটি আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে এবং সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’
আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর দলটির প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার মতো নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নেই। তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি দলের পক্ষে জনগণের সামনে শক্ত অবস্থানে ফিরে আসা সহজ হবে না।
একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের জন্য কতটা উপযোগী— এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের জন্য কিছু মৌলিক নীতি ও মানদণ্ড রয়েছে। কোনো দল যদি সেই নীতিমালা লঙ্ঘন করে, তাহলে জনসমর্থন থাকলেও তার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন কোনো দলীয় প্রতীকে হবে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের আইনের মধ্যে থেকে যে কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত সেটা দেখার বিষয় না।’