ঢাকা: মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশে বিদ্যমান আইনসমূহ দুর্বল দাবি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্র এত দুর্বল আইনের ভিত্তিতে চলতে পারে না। অপরাধীরা সংগঠিত এবং আধুনিক যুগে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য অনলাইনে বেচাকেনা হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের বেচাকেনার ব্যবসার টাকা অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন উপলক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে যে আইনটা আছে এই আইন দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে ফাইট করা যাচ্ছে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের, ইন্সপেক্টরদের সক্ষমতা বাড়ানো যাচ্ছে না। আপনারা হয়ত জানেন মাদকদ্রব্যের ব্যবসায়ী চোরাকারবারি যারা করে তাদের সশস্ত্র গ্রুপ আছে। কিন্তু আমাদের কর্মকর্তাদের যারা ইন্সপেক্টর, অপারেশন করতে যায়, অভিযান চালায় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এটা অনেকটা ঢাল নাই তলোয়ার নাই, নীধিরাম সরদারের মতো। তারপরে সাফিশিয়েন্ট ল্যাবরেটরি নেই। মাদকদ্রব্য ধরা পড়ার পরে যে একটা আইনি ব্যবস্থা, এটা মাদক কিনা টেস্ট করার জন্য কয়েকটি ল্যাবরেটরি আছে তাও দুর্বল।’
তিনি বলেন, ‘৮০ হাজার মামলা পেন্ডিং আছে ঢাকায়। কক্সবাজারে ১৮ হাজার, চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার। এই মামলাগুলো পরিচালনার জন্য আমাদের যে কোর্ট আছে, বিদ্যমান আদালত, তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। মামলা জটের কারণে বেনিফিটটা চলে যায় আসামিদের কাছে। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা ট্রাইবুনাল সৃজনের প্রস্তাব দিয়েছি। হাজতখানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ট্রান্সপোর্টেশনের ব্যবস্থা রাখা, ডগ স্কোয়াডের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র দেওয়া হবে। এগুলো করার পরে আমরা একটা অপারেশনে যাব। আইনটা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পার্লামেন্টে উঠবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আপনারা দেখছেন জুয়ার উপর একটা মডার্ন আইন করেছি। সেটিও আগামীতে ইনশাআল্লাহ পাশ হবে। এরপরে সাইবারে যাব। আইনের কাঠামো দাঁড় করাতে হবে। তারপরে আরেকটা বাহিনীর মডারনাইজেশন হবে। আইনি ভিত্তি শক্ত না থাকলে এগুলোর বিরুদ্ধে ফাইট করা যাবে না।‘
তিনি আরও বলেন, ‘শক্তভাবে আইনি কাঠামোগুলো দাঁড় করানোর পরে আমরা আশা করি সমাজে একটা পরিবর্তন আসবে।’
এসময় ১৫টি বেসরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র পরিচালকদের হাতে চেক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।