Thursday 22 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ব্যয় প্রায় শূন্য, ২০২২ সালে লুট হয় ১৪০ কোটি: তথ্যমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৯ জুলাই ২০২৬ ১৩:৪৬

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। ফিফার কাছ থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব কিনে এবং দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে অধিকাংশ অর্থ আদায় করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় এখন মাত্র চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যয়ও শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে ২০২২ সালে এই খাত থেকে ১৪০ কোটি টাকা লুট হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এবারের বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পেরেছেন। সরকারের লক্ষ্য ছিল জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দিয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা।’

তিনি জানান, বিটিভি এবার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে মিডিয়া রাইটস সংগ্রহ করেছে। পরে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে অধিকাংশ অর্থ আদায় করা হয়েছে। ফলে সরকারের ওপর সামান্য চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার চাপ রয়েছে। আরও আলোচনা সফল হলে এ অর্থও আদায় করা সম্ভব হতে পারে।

২০২২ সালের বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব প্রথমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে। পরে বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান সেই স্বত্ব কিনে নেয়। এরপর বিটিভি সরকারের অর্থে প্রায় ৯৮ কোটি টাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয় করে। একই সময়ে টি স্পোর্টসের কাছে প্রায় ২২ কোটি টাকা এবং টফির কাছে প্রায় ১৭ কোটি টাকায় পৃথকভাবে সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রি করা হয়।’ সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ওই প্রক্রিয়ায় একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় এবং দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। অথচ এবার ফিফার কাছ থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব নেওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ বন্ধ হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সাশ্রয় হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ ছিল দেশের মানুষকে বিশ্বকাপ দেখাতে হবে, তবে জনগণের অর্থের অপচয় করা যাবে না। সেই নির্দেশনা অনুসারেই ফিফার সঙ্গে দীর্ঘদিন দরকষাকষি করা হয়েছে। এ কাজে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আজকের ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের পুরো কার্যক্রম শেষ হবে। ভবিষ্যতের বিশ্বকাপগুলো আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং আরও কম ব্যয়ে, এমনকি লাভজনকভাবে সম্প্রচারের পরিকল্পনা এখন থেকেই নেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর