Saturday 24 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জুন-জুলাইয়ে ২০২৩ সালের তুলনায় লোডশেডিং কমেছে: তথ্য উপদেষ্টা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৫৯ | আপডেট: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৮

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

ঢাকা: ২০২৩ সালের তুলনায় চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে দেশে গড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে আগস্টে গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে লোডশেডিং বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংকট কেটে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘একসময় দেশে লোডশেডিং থাকলেও ঢাকায় তা একেবারেই দেওয়া হতো না। ফলে ঢাকার মানুষ লোডশেডিং না দেখায় দেশে লোডশেডিং নেই—এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল। ঢাকার মানুষের সামাজিক প্রভাব বা ‘সোশ্যাল ক্যাপিটাল’ বেশি হওয়ায় এই ধারণাটি আরও জোরালো হয়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের সর্বশেষ পূর্ণ বছর ২০২৩ সালের সঙ্গে ২০২৬ সালের লোডশেডিংয়ের তুলনামূলক চিত্র দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ২০২৩ সালের জুনে দেশে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৯৬৯ মেগাওয়াট। চলতি বছরের জুনে তা কমে ৭৪১ মেগাওয়াট হয়েছে। একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড় লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কমে ৪৬০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।’

তবে আগস্টে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘২০২৩ সালের আগস্টে গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াট হয়েছে। আগস্টে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরাও বলেছেন, গ্যাসের যে সংকট ছিল তা কেটে গেলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। ফলে বর্তমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আমরা আশা করছি।’

ঢাকায় লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকাকেও কিছুটা সংকট মেনে নিতে হবে। তবে দেশের সবচেয়ে বড়ো শহর হিসেবে ঢাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হওয়ায় বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ঢাকা কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে। কিন্তু ঢাকাকে একেবারে লোডশেডিংমুক্ত রাখার ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।’

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ে—এটি একটি মৌলিক বিষয়। ২০২৩ সালের জুনের তুলনায় চলতি বছরের জুনে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হলেও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমেছে। জুলাইয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে।’

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু মোট লোডশেডিংয়ের পরিমাণ নয়, বিদ্যুতের মোট চাহিদার তুলনায় লোডশেডিংয়ের হার বা শতাংশ হিসাবেও তুলনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।’

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর