Saturday 24 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ফ্যাসিবাদী আ.লীগ প্রতিরোধের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৪৮ | আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:১৫

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ঢাকা: আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী এই শক্তিকে প্রতিরোধের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক, বহুমত কিংবা মতবিরোধ থাকবে, তবে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা মোকাবিলার জায়গায় রাজনৈতিক ঐক্যের বিকল্প নেই।’

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গুম, খুন, হামলা ও মামলার মধ্য দিয়ে পুরো জাতিকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।’ এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রধান কারিগর হিসেবে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং জেনারেল জিয়াউল আহসানকে অভিযুক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই আকঙ্ক্ষাকে শক্তিতে রূপান্তর করেই দেশে গণতন্ত্রের পতাকা সমুন্নত রাখা হবে।’

বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার আইনগত অগ্রগতির চিত্র সংসদে উপস্থাপন করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের ফেরত আনতে সরকার নিয়মিত কূটনৈতিক ও আইনি কার্যক্রম জোরদার করেছে। এর ইতিবাচক ফল হিসেবে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ইউএই থেকে মোহাম্মদ আরিফ সরকার এবং কাতার থেকে মোবারক মণ্ডলকে ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার আলোচিত তনু হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও রেড নোটিশ জারি করে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

বিরোধী দলের আনা গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনের আপত্তির জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আইনের সংশোধনী না দিয়ে বিরোধীরা আইনসভার প্রক্রিয়া থেকে ওয়াকআউট করেছেন। বর্তমান আইনে ভুক্তভোগীদের জন্য সরাসরি আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে।’ দেশ থেকে ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বা ‘গুম’ শব্দটি চিরতরে বিলুপ্ত করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সরকার এই কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর