Thursday 15 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ডিসেম্বরে শেষ গঙ্গা চুক্তি: নতুন পরীক্ষার মুখে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩৪ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:০৫

চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি। তবে চুক্তিটি নবায়নের জন্য বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক চিঠি দিলেও এখনো কোনো রকম সাড়া দেয়নি ভারত। এই চুক্তি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে নতুন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি নবায়নে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু করতে গত জুন মাসেই নয়াদিল্লিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় ঢাকা।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও ভারত এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার আগে দুটি দেশের টেবিলে বসা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কূটনীতিক বলেন, ২০২৪ সালের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনীতিক সম্পর্কের এখন পুরোটা বরফ গলেনি। যদিও তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে নতুন করে কাজ করতে ভারত আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশও চায় নিজেদের অধিকার এবং প্রধান্যের জায়গা ঠিক রেখে সম্পর্ক নতুন করে শুরু করা। ঠিক এই মুহূর্তে
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিটি নতুন করে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। কারণ এখনই আলোচনা শুরু করতে না পারলে এটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ এখন সেপ্টেম্বর মাসের৷ মাঝামাঝি চলছে। হাতে খুব বেশি সময় নেই।

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিটি নাম দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কোঅপারেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’-এ নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছিল। গত ৩০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির চাহিদায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে শুধু একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে পানি ভাগাভাগি না করে পুরো অববাহিকা ধরে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত বর্তমান চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চুক্তি নবায়নের বিষয়টি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন ও বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি করতে চায় ঢাকা।

এই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে এবং দুই দেশের সম্পর্কের বরফ কতটা গলবে—তা নির্ভর করছে খুব দ্রুত আলোচনার টেবিলে ভারত কীভাবে সাড়া দেয় তার ওপর।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর